কে আমি! কী আমার পরিচয়!!
অনাদি অনন্ত এক মহান স্রষ্টা। অপার অসীম তার ক্ষমতা। ইচ্ছে করলেন সে ক্ষমতার বিকাশ ঘটানোর। সৃষ্টি করলেন আরশ-কুরসী, সপ্তাকাশ ও মহাবিশ্ব এবং ফেরেশতা, প্রাণীকুল ও বৃক্ষরাজিকে।
সৃষ্টি
করলেন জান্নাত ও জাহান্নাম এবং মানব ও দানব জাতিকে। যারা নানান চাহিদার
মুখাপেক্ষী, স্বাধীন ইচ্ছার অধিকারী ও তার আদেশ-নিষেধের সম্বোধন-পাত্র।
নির্দিষ্ট
কিছু দিনের পর গোটা সৃষ্টিকে তিনি ধ্বংস করে দিবেন। তবে জান্নাত-জাহান্নাম
ও মানব এবং দানব জাতিকে করবেন পুনরুত্থান। নির্ধারিত সময়ে করা তাদের
কর্মের ফলই নির্ধারণ করবে তাদের পরবর্তী চিরকালীন বাসস্থান
জান্নাত-জাহান্নাম।
চিরস্থায়ী
জীবনের পূর্বনির্ধারিত সময়কাল যাপন এবং জান্নাত জাহান্নামের প্রকৃত
অধিবাসী নির্বাচনের জন্য তাদেরকে পাঠাবেন পৃথিবীতে। তাই পৃথিবীকে সাজালেন
অন্যান্য সব গ্রহ থেকে ভিন্ন ভাবে। তাদের চাহিদা পূরণের উপযোগী করে।
তাদেরকে
প্রেরণের পূর্বে সেখানে প্রেরণ করলেন নানান প্রজাতির প্রাণী, যাদের
অধিকাংশই হিংস্র। তবে পৃথিবীতে টিকে থাকার জন্য যেসব প্রাণীর সঙ্গে তারা
মোকাবেলা করতে পারবে না, সেসবকে আল্লাহ ধ্বংস করে দিয়েছেন প্রেরণের
পূর্বেই।
প্রথমে প্রেরণ করলেন দানব জাতিকে। কিন্তু তাদের অধিকাংশই
অপব্যবহার করল ইচ্ছা-স্বাধীনতার। লিপ্ত হল খারাপ কাজে। ভিন্ন ছিল ইবলিশ।
সে যেন ফেরেশতা। (অভ্যন্তরীণ যদিও তার ইবলিশই ছিল!) মিশে গিয়েছিল
ফেরেশতাদের সাথে। উঠে গিয়েছিল আকাশে, যেখানে ফেরেশতাদের বসবাস।
অন্যান্যদের
প্রতি অসন্তুষ্ট হলেন আল্লাহ। তাড়িয়ে দিলেন পৃথিবীর সুবিধাজনক স্থান
থেকে। পৃথিবিকে সংস্কার করলেন মানব জাতির জন্য। ডাকলেন ফেরেশতাদেরকে। মানব
সৃষ্টির ইচ্ছের কথা জানালেন তাদেরকে।
পৃথিবীর
ইতিহাসে মানব পূর্ব সকল জাতির অবাধ্য হওয়া ফেরেশতাদের মনে এই ধারণার
সৃষ্টি করেছিল যে, পৃথিবীতে যারাই বসবাস করবে, দাঙ্গা-হাঙ্গামা, রক্তপাত ও
ঝগড়া-ফাসাদ করবে। তাই তারা আল্লাহর ইচ্ছার কথা জেনে তৎক্ষণাৎ বলতে লাগলো,
আপনি কি আবারও এমন জাতি বানাতে যাচ্ছেন যারা পৃথিবীতে রক্তপাত করবে? তিনি
বললেন-আমি যা জানি তোমরা তা জানো না।
তিনি
সৃষ্টি করলেন আদমকে এবং আদেশ করলেন গোটা আকাশ-বাসীক (ইবলিশ ও ফেরেশতাকুল)
আদম এর পায়ে সিজদা করার জন্য। সবাই সিজদা করল। ফেরেশতাদের অবাধ্যতার শক্তি
ছিল না। ইবলিশের ছিল। অতীতে এর সদ্ব্যবহার করলেও এই মুহূর্তে করে ফেলল
অপব্যবহার। আর প্রকাশ পেয়ে গেল তার (ইবলিশি) অহংকার।
জিন
জাতির এই একমাত্র ইবলিশ, তার প্রতিও অসন্তুষ্ট হয়ে গেলেন আল্লাহ।
পরীক্ষায় ফেল করলো সে। হয়ে গেলো জাহান্নামীদের তালিকাভুক্ত। হারালো আকাশে
বসবাসের সুযোগ। এখান থেকেই ইবলিশ-মনে জন্ম নিল আদমের প্রতি আমরণ শত্রুতা।
তাই অতীতের ভালো কাজের বিনিময়ে আল্লাহর কাছ থেকে চেয়ে নিল তা-কিয়ামাত
দীর্ঘ জীবন। শুরু হলো ইবলিশের শত্রুতা।
মানুষকে
আল্লাহ সৃষ্টি করেছিলেন পৃথিবীর খলিফা হিসেবেই। আপাতত রেখেছিলেন জান্নাতে।
পরবর্তীতে তিনি নিজেই তাকে পৃথিবীতে পাঠাতেন হয়তো অন্য কোন পদ্ধতিতে।
কিন্তু এর আগেই ইবলিশ প্রকাশ করে ফেললো তার মনের গোপন শত্রুতার।
আদমের
জানা ছিলনা সে পৃথিবীর জন্য। কিন্তু ইবলিশের ছিল। তাই সে এ কথাটা আদমের
কাছে উপস্থাপন করলো একটু ভিন্ন পদ্ধতিতে তাকেও নিজের দলে প্রবেশ করানোর
জন্য। আদম ইবলিশের শত্রুতার কথা জানত না এবং ভুলে গিয়েছিল তার ধৃষ্টতা
প্রদর্শনের কথা। অজান্তে ফেঁসে গেল তার জালে। জান্নাত থেকে তাকে তৎক্ষণাৎ
বের হয়ে যেতে হল।
(সম্ভবত
আল্লাহ এটাই চেয়েছিলেন যে, পৃথিবীতে প্রেরণের পূর্বেই আদমকে তার শত্রুর
সাথে পরিচয় করিয়ে দিবেন, আশু পরীক্ষায় সে যেন ফেল না করে।)
পৃথিবীর
অবস্থান কোটি কোটি ইউনিভার্স-গ্যালাক্সি আর সৌরজগত পেড়িয়ে গভীর
নিচে। সেখানে মানবিক চাহিদা পূরণের চেষ্টা নিজে থেকে করতে হয়। অন্ন
বস্ত্র বাসস্থান চিকিৎসা নিরাপত্তার জন্য হাজারো চেষ্টা করতে হয়।
অন্যদিকে
আদম আল্লাহ তায়ালার ভালোবাসার সৃষ্টি। যদিও আল্লাহ সবখানে বিরাজমান, তবু
আল্লাহর আরশ থেকে দূরত্ব আদমের জন্য বিরাট কষ্টকর। এসব কিছুর মাঝে পূর্বের
কোন আয়োজন-প্রস্তুতি ছাড়াই চলে যেতে হবে পৃথিবীতে। আবার কখন ফিরে আসতে
পারবে জান্নাতে এবং কিভবেই বা? যেসব প্রশ্নবাণে জর্জরিত আদম।
জান্নাত
থেকে বের হওয়ার সময় আল্লাহ মানুষকে বলে দিয়েছিলেন, যাও! ভয় পেয়ো না।
পৃথিবীতে আমি পথ প্রদর্শিকা পাঠাবো। তুমি এর অনুসরণ করো। তাহলে পুনরায়
আদিবাসস্থানে ফিরে আসতে পারবে। আদম হাওয়া পৃথিবীতে আসলেন জীবন সংগ্রাম
শুরু করলেন।
আল্লাহ
তার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করলেন এবং পৃথিবীতে বসবাসের পদ্ধতি শিক্ষা
দিলেন। বললেন যে পদ্ধতি আমি তোমাকে শিক্ষা দিয়েছি, যদি এর পরিপূর্ণ অনুসরণ
করো তবে ফিরে আসতে পারবে তোমার আদি বাসস্থান জান্নাতে। অন্যথায় হবে পথ
ভ্রষ্ট। জাহান্নামী।
যুগে
যুগে তিনি পথ প্রদর্শন করেছেন। যারা অনুসরণ করেছে প্রদর্শিত হয়েছে। যারা
অবাধ্যতা করেছে পথভ্রষ্ট হয়েছে। জাহান্নামের লিস্টে নাম লিখিয়েছে।
আমরা সেই ধারার শেষ নবীর উম্মত। আমাদের পথ প্রদর্শনের জন্য নাযিল করেছেন
কোরআন। তিনি বলেছেন আমরা যেন আকাশ এবং জমিনের মধ্যে এবং আমাদের নিজেদের
মধ্যে গবেষণা করি, খুঁজে বের করি সেই মহান প্রভুর অস্তিত্ব ও মহাশক্তির
প্রমাণ।
হে যুবক,
তাই একটু পৃথিবীর দিকে তাকাও। তাকাও এই ব্রহ্মান্ডের দিকে এবং তোমার নিজের দিকে, খুঁজে বের কর আপন প্রতিপালককে।

0 মন্তব্যসমূহ